প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত? জেনে নিন সঠিক নিয়ম

পানি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা, খাবার হজম করা, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা এবং বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে পানি সাহায্য করে। কিন্তু প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত, কোন সময়ে পানি পান করা ভালো এবং শরীরে পানির ঘাটতি হলে কীভাবে বুঝবেন, তা অনেকেই জানেন না।

অনেকের ধারণা, সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিন সবার জন্য আট গ্লাস পানি পান করতেই হবে। বাস্তবে পানির চাহিদা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া, খাবারের ধরন এবং স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর দৈনিক পানির প্রয়োজন নির্ভর করে। বাংলাদেশের মতো গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার দেশে ঘাম বেশি হলে শরীরের পানির চাহিদাও বেড়ে যেতে পারে।

এই আর্টিকেলে প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত, পানি পান করার সঠিক নিয়ম, পানিশূন্যতার লক্ষণ, পানি পান করার উপযুক্ত সময় এবং অতিরিক্ত পানি পান করার ঝুঁকি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত?

প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করতে হবে, তার কোনো একক পরিমাণ সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। তবে দৈনিক পানির চাহিদা বোঝার জন্য কিছু সাধারণ নির্দেশনা অনুসরণ করা যায়।

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে খাবার ও সব ধরনের পানীয় মিলিয়ে দৈনিক মোট পানির চাহিদা আনুমানিক ২–৩ লিটার বা তার বেশি হতে পারে। গরম আবহাওয়া কিংবা ভারী শারীরিক পরিশ্রমের সময় এই চাহিদা আরও বাড়তে পারে।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি: মোট পানির পরিমাণ এবং শুধু পানীয় জল পান করার পরিমাণ এক নয়। ফলমূল, শাকসবজি, দুধ, স্যুপসহ বিভিন্ন খাবার থেকেও শরীর পানি পায়।

Glass of water isolated on white background

সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক

তৃষ্ণা, আবহাওয়া ও দৈনন্দিন কাজের ওপর ভিত্তি করে পানি পান করুন। অনেকের ক্ষেত্রে দিনে প্রায় ১.৫–২.৫ লিটার পানীয় জল উপযুক্ত হতে পারে, তবে এটি সবার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম নয়।

Beneficios del citrato de potasio para tu salud y equilibrio corporal
 – Vnat

ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম করেন যারা

ঘামের পরিমাণ ও পরিশ্রমের সময় অনুযায়ী অতিরিক্ত পানি প্রয়োজন হতে পারে। দীর্ঘ সময় প্রচুর ঘাম হলে ইলেকট্রোলাইটের প্রয়োজনও বিবেচনা করতে হয়।

MonCoachGourmand | Plans Repas Personnalisés

গরম আবহাওয়ায় বাইরে কাজ করেন যারা

বাংলাদেশের গরমে বাইরে কাজ করলে নিয়মিত পানি পান করুন। বেশি ঘাম হলে শুধু তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে বিরতি নিয়ে পানি পান করা ভালো।

বয়স অনুযায়ী প্রতিদিন কতটুকু পানি প্রয়োজন?

বয়সের সঙ্গে শরীরের পানির চাহিদা বদলায়। শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স ও ওজন গুরুত্বপূর্ণ। বয়স্কদের ক্ষেত্রে তৃষ্ণার অনুভূতি কমে যেতে পারে বলে পানির ঘাটতির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

নিচের পরিমাণগুলো বিভিন্ন বয়সে দৈনিক মোট পানির আনুমানিক চাহিদার উদাহরণ। এগুলো নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশন নয়।

বয়স বা শ্রেণিদৈনিক মোট পানির আনুমানিক চাহিদা
১–৩ বছর বয়সী শিশুপ্রায় ১.৩ লিটার
৪–৮ বছর বয়সী শিশুপ্রায় ১.৭ লিটার
৯–১৩ বছর বয়সী শিশুপ্রায় ২.১–২.৪ লিটার
প্রাপ্তবয়স্ক নারীপ্রায় ২.৭ লিটার
প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষপ্রায় ৩.৭ লিটার

এই হিসাবগুলোতে খাবার ও পানীয় থেকে পাওয়া পানি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। শিশুদের বয়স, খাবার এবং শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চাহিদা ভিন্ন হয়। গর্ভবতী ও বুকের দুধ খাওয়ানো নারীদেরও সাধারণত বেশি পানির প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষ সতর্কতা: কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র বা লিভারের কিছু রোগে চিকিৎসক পানি সীমিত করতে বলতে পারেন। তাই এ ধরনের রোগ থাকলে সাধারণ পরিমাণ অনুসরণ না করে চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলুন।

শরীরের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা কেন জরুরি?

শরীরের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে পানির সম্পর্ক রয়েছে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সুবিধা হয়।

১. শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে

গরমের সময় শরীর ঘামের মাধ্যমে তাপ বের করে দেয়। ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি কমে যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান না করলে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

২. হজমে সাহায্য করে

পানি খাবার হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ মল নরম রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক হতে পারে।

৩. কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে

কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। পর্যাপ্ত পানি শরীরের স্বাভাবিক তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে বেশি পানি খেলেই কিডনি বেশি সুস্থ থাকবে, এমন ধারণা সঠিক নয়।

৪. মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে

শরীরে পানির ঘাটতি হলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গরমে কাজ বা ব্যায়াম করার সময় পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়ক।

৫. শরীরের স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালনে সাহায্য করে

রক্তের একটি বড় অংশ পানি দিয়ে গঠিত। শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্তের তরল অংশ কমে যেতে পারে এবং কিছু পরিস্থিতিতে মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

৬. শরীরের বর্জ্য বের হতে সহায়তা করে

প্রস্রাব ও ঘামের মাধ্যমে শরীর বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ বের করে। পর্যাপ্ত পানি এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

প্রতিদিন পানি পান করার সঠিক নিয়ম

শুধু প্রতিদিন কত লিটার পানি পান করছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়। কখন পানি পান করছেন, কত দ্রুত পান করছেন এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি গ্রহণ করছেন কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

১. সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করুন

ঘুম থেকে ওঠার পর এক গ্লাস পানি পান করতে পারেন। রাতে ঘুমানোর সময় শরীর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে কিছু পানি হারায়। সকালে পানি পান করলে শরীরের তরলের ঘাটতি পূরণে সাহায্য হয়।

তবে সকালে খালি পেটে পানি পান করতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। দিনের অন্য সময়েও পানি পান করা সমান গুরুত্বপূর্ণ।

২. সারাদিন অল্প অল্প করে পানি পান করুন

একবারে অনেক পানি পান করার পরিবর্তে দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করুন। এতে দৈনিক পানির চাহিদা পূরণ করা সহজ হয়।

উদাহরণ হিসেবে আপনি এই অভ্যাসগুলো অনুসরণ করতে পারেন:

  • ঘুম থেকে ওঠার পর এক গ্লাস পানি পান করুন।
  • সকালের নাশতার সঙ্গে বা আগে-পরে পানি পান করুন।
  • কাজ বা পড়াশোনার সময় পানির বোতল কাছে রাখুন।
  • দুপুর ও রাতের খাবারের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন।
  • বাইরে থেকে ফিরে বা ব্যায়ামের পর ঘামের পরিমাণ অনুযায়ী পানি পান করুন।

৩. তৃষ্ণা পেলে পানি পান করুন

তৃষ্ণা শরীরের পানির প্রয়োজন বোঝার একটি স্বাভাবিক সংকেত। তবে প্রচণ্ড গরম, ব্যায়াম বা বেশি ঘামের সময় শুধু তৃষ্ণার ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। এ সময় নিয়মিত বিরতি নিয়ে পানি পান করা ভালো।

৪. খাবারের সঙ্গে পানি পান করতে পারেন

খাওয়ার আগে বা খাবারের সঙ্গে পানি পান করলে সাধারণত হজমের ক্ষতি হয় না। বরং পানি খাবার গিলতে ও হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।

খাওয়ার পর পানি পান করলে খাবার হজম হতে বাধা দেয়, এমন প্রচলিত ধারণার পক্ষে ভালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

৫. ব্যায়ামের আগে ও পরে পানি পান করুন

ব্যায়াম করার সময় ঘামের মাধ্যমে পানি বেরিয়ে যায়। তাই ব্যায়ামের আগে শরীরকে পর্যাপ্ত তরল সরবরাহ করুন এবং ব্যায়ামের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন।

দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করলে বা প্রচুর ঘাম হলে ঘামের পরিমাণ অনুযায়ী তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করতে হতে পারে।

৬. ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত পানি পান করবেন না

ঘুমানোর আগে তৃষ্ণা পেলে পানি পান করুন। তবে একসঙ্গে অনেক পানি পান করলে রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যেতে পারে। তাই দিনের বেলাতেই প্রয়োজনীয় পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত? জেনে নিন সঠিক নিয়ম
প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত? জেনে নিন সঠিক নিয়ম 10

শরীরে পানির ঘাটতি হয়েছে কি না বুঝবেন কীভাবে?

শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় পানি কমে গেলে তাকে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন বলা হয়। গরমের সময়, অতিরিক্ত ঘাম হলে, জ্বর হলে কিংবা ডায়রিয়া ও বমির কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পানিশূন্যতার সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:

  • অতিরিক্ত তৃষ্ণা পাওয়া।
  • প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া।
  • প্রস্রাবের রং স্বাভাবিকের চেয়ে গাঢ় হওয়া।
  • মুখ ও জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া।
  • মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা।
  • দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভব করা।
  • মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা হওয়া।

প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ থাকা অনেকের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানির একটি সাধারণ ইঙ্গিত হতে পারে। তবে ভিটামিন, ওষুধ ও কিছু রোগের কারণে প্রস্রাবের রং বদলাতে পারে। তাই শুধু রং দেখে শরীরের পানির অবস্থা নিশ্চিত করা যায় না।

কখন চিকিৎসা নিতে হবে? প্রস্রাব খুব কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব, বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা গুরুতর দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা দ্রুত গুরুতর হতে পারে।

অতিরিক্ত পানি পান করলে কি ক্ষতি হয়?

পানি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও অল্প সময়ে অতিরিক্ত পানি পান করা ক্ষতিকর হতে পারে। খুব বেশি পানি পান করলে রক্তে সোডিয়ামের ঘনত্ব বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। এই অবস্থাকে হাইপোন্যাট্রেমিয়া বলা হয়।

অতিরিক্ত পানি গ্রহণের সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো হলো:

  • বমি বমি ভাব বা বমি।
  • মাথাব্যথা।
  • দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক অস্থিরতা।
  • গুরুতর অবস্থায় বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা চেতনা হারানো।

বিশেষ করে অল্প সময়ে কয়েক লিটার পানি পান করার চেষ্টা করবেন না। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী বিরতি দিয়ে পানি পান করুন।

কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র বা লিভারের রোগ থাকলে অতিরিক্ত পানি শরীরে জমে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পানি গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো উচিত নয়।

গরমের দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত?

বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে বেশি পানি বের হতে পারে। ফলে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় বেশি পানি প্রয়োজন হতে পারে।

গরমের সময় সুস্থ থাকতে নিচের নিয়মগুলো অনুসরণ করুন:

  • বাইরে যাওয়ার সময় পানির বোতল সঙ্গে রাখুন।
  • দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করলে ছায়ায় বিশ্রাম নিন।
  • ঘাম বেশি হলে নিয়মিত পানি পান করুন।
  • হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন।
  • অতিরিক্ত গরমে কঠোর শারীরিক পরিশ্রম কমিয়ে দিন।
  • ডায়রিয়া বা বমি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী ওরস্যালাইন ব্যবহার করুন এবং গুরুতর লক্ষণে চিকিৎসা নিন।

প্রচুর ঘাম, দীর্ঘ ব্যায়াম বা অসুস্থতার সময় শুধু সাধারণ পানি যথেষ্ট হবে কি না, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। ডায়রিয়া বা বমিতে শরীর থেকে পানি ও লবণ দুটোই বেরিয়ে যায়। তাই সঠিক নিয়মে তৈরি ওরস্যালাইন অনেক ক্ষেত্রে উপকারী।

কোন কোন খাবার থেকে শরীরে পানি পাওয়া যায়?

প্রতিদিনের পানির চাহিদা পূরণ করতে শুধু পানীয় জলই একমাত্র উৎস নয়। বিভিন্ন ফল, শাকসবজি ও অন্যান্য খাবার থেকেও শরীর পানি পায়।

Sliced fresh watermelon wedges in white bowl on wooden table

১. তরমুজ

তরমুজে প্রচুর পানি থাকে। গরমের দিনে এটি শরীরের তরল গ্রহণে সাহায্য করে।

Concombre Louisa F1 qualité maraîchère - Cucumis sativus - Graines potagères

২. শসা

শসায় পানির পরিমাণ বেশি। সালাদ হিসেবে খেলে খাবারের পাশাপাশি কিছু পানি পাওয়া যায়।

Large navel orange Nutrition

৩. কমলা ও অন্যান্য রসালো ফল

কমলা, পেয়ারা ও অন্যান্য ফল শরীরে পানি সরবরাহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয়।

Homestead Vegetable Soup (recipe and tips)

৪. স্যুপ ও তরল খাবার

সবজির স্যুপ, পাতলা ডাল এবং অন্যান্য তরল খাবার দৈনিক মোট পানির চাহিদা পূরণে অবদান রাখে।

এসব খাবার উপকারী হলেও এগুলোর ওপর নির্ভর করে পানীয় জল সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া উচিত নয়। সুষম খাবার ও নিরাপদ পানীয় জল মিলিয়ে দৈনিক চাহিদা পূরণ করুন।

প্রতিদিন পানি পান করার একটি সহজ রুটিন

আপনি যদি নিয়মিত পানি পান করতে ভুলে যান, তাহলে নিচের নমুনা রুটিনটি অনুসরণ করতে পারেন। এটি কোনো বাধ্যতামূলক সময়সূচি নয়; নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ পরিবর্তন করবেন।

সময়কী করবেন
সকালে ঘুম থেকে উঠেএক গ্লাস পানি পান করুন
সকালের নাশতার সময়প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন
সকাল থেকে দুপুরকাজের ফাঁকে ফাঁকে পানি পান করুন
দুপুরের খাবারের সময়খাবারের সঙ্গে পানি পান করুন
বিকেলেতৃষ্ণা ও কাজের ধরন অনুযায়ী পানি পান করুন
ব্যায়ামের আগে ও পরেব্যায়ামের সময়কাল ও ঘামের পরিমাণ অনুযায়ী পানি পান করুন
রাতের খাবারের সময়প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন
ঘুমানোর আগেতৃষ্ণা পেলে অল্প পানি পান করুন

এই রুটিন অনুসরণ করার সময় মনে রাখবেন, সবার জন্য প্রতিবার এক গ্লাস পানি পান করা বা নির্দিষ্ট সময়ে পানি পান করা বাধ্যতামূলক নয়।

প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত: সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

১. প্রতিদিন ৮ গ্লাস পানি পান করলেই কি যথেষ্ট?

আট গ্লাস পানি অনেকের জন্য একটি সহজ নির্দেশনা হতে পারে। তবে গ্লাসের আকার, খাবার থেকে পাওয়া পানি, শারীরিক পরিশ্রম ও আবহাওয়ার ওপর চাহিদা নির্ভর করে। তাই আট গ্লাস সবার জন্য যথেষ্ট, এমন নিশ্চয়তা নেই।

২. ওজন অনুযায়ী কতটুকু পানি পান করা উচিত?

শরীরের ওজন পানির চাহিদা নির্ধারণে একটি বিষয় হলেও শুধু ওজন দিয়ে সবার জন্য নির্ভুল পরিমাণ নির্ধারণ করা যায় না। বয়স, ঘাম, আবহাওয়া, শারীরিক কাজ এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থাও বিবেচনা করতে হয়।

৩. বেশি পানি পান করলে কি ওজন কমে?

পানিতে ক্যালরি নেই। চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে পানি পান করলে মোট ক্যালরি গ্রহণ কমতে পারে। খাবারের আগে পানি পান করলে কিছু মানুষের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা হতে পারে। তবে শুধু বেশি পানি পান করলেই শরীরের চর্বি কমে না।

৪. ঠান্ডা পানি পান করা কি ক্ষতিকর?

সুস্থ মানুষের জন্য সাধারণত ঠান্ডা পানি পান করা ক্ষতিকর নয়। আপনি ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি, যেটি পান করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেটি বেছে নিতে পারেন।

৫. রাতে পানি পান করা কি ঠিক?

রাতে তৃষ্ণা পেলে পানি পান করতে পারেন। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে অনেক পানি পান করলে রাতে প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙতে পারে।

৬. চা ও কফি কি দৈনিক পানির হিসাবের মধ্যে পড়ে?

হ্যাঁ, চা ও কফি দৈনিক তরল গ্রহণে অবদান রাখে। তবে অতিরিক্ত চিনি দেওয়া পানীয়ের বদলে নিরাপদ সাধারণ পানি বেছে নেওয়া ভালো।

৭. কিডনির রোগ থাকলে কি বেশি পানি পান করতে হবে?

না। কিডনির রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী পানির প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। কারও কারও পানি সীমিত করতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পানি গ্রহণের পরিমাণ বাড়াবেন না।

উপসংহার

প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত, তার উত্তর নির্ভর করে আপনার বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া, খাবার এবং স্বাস্থ্যের ওপর। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দৈনিক মোট পানির চাহিদা প্রায় ২–৩ লিটার বা তার বেশি হতে পারে, তবে এই পরিমাণের মধ্যে খাবার ও অন্যান্য পানীয় থেকে পাওয়া পানিও অন্তর্ভুক্ত।

সুস্থ থাকার জন্য দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করুন, গরমে ও ব্যায়ামের সময় তরলের ঘাটতি পূরণ করুন এবং অতিরিক্ত পানি অল্প সময়ে পান করা থেকে বিরত থাকুন। কিডনি বা হৃদ্‌যন্ত্রের রোগ থাকলে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী পানি পান করুন।

মনে রাখবেন, পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, তবে জোর করে অতিরিক্ত পানি পান করার প্রয়োজন নেই। শরীরের প্রয়োজন বুঝে নিয়মিত পানি পান করাই ভালো অভ্যাস।

Leave a Comment